পুষ্টি মিক্স কি, কীভাবে তৈরি হয় আর কাদের জন্য
অঙ্কুরিত করলে খাবারে আসলে কী বদলায়, কোন বয়স থেকে কতটুকু দেওয়া যায়, সেরেলাকের সাথে পার্থক্য কোথায় — আর ঘরে বানানোর ধাপগুলো।

পুষ্টি মিক্স কি — সহজ উত্তর: পুষ্টি মিক্স হলো অঙ্কুরিত শস্য, ডাল ও বাদাম শুকিয়ে, ভেজে ও গুঁড়া করে বানানো একটি মিশ্র গুঁড়া খাবার, যা পানি বা দুধে গুলে জাউয়ের মতো রান্না করে বাবুকে দেওয়া হয়।
“দোকানে দুই রকম কৌটা দেখলাম — একটায় লেখা সেরেলাক, আরেকটায় পুষ্টি মিক্স। দুটোই তো গুঁড়া, দেখতেও প্রায় এক। তাহলে পুষ্টি মিক্স আলাদা কী, আর আমার ৯ মাসের বাবুর জন্য কোনটা?”
— Kids Care BD কমিউনিটি থেকে
প্রশ্নটা ন্যায্য, কারণ বাংলাদেশে “পুষ্টি মিক্স” নামটার কোনো বাঁধাধরা সংজ্ঞা নেই। একেক ব্র্যান্ড একেক জিনিস বোঝায়।
পুষ্টি মিক্স মানে অঙ্কুরিত শস্য, ডাল ও বাদামের গুঁড়া মিশ্রণ। শস্য অঙ্কুরিত করে নিলে জাউ কম ঘন হয়, ফলে একই বাটিতে বেশি শক্তি ও পুষ্টি ধরে — FAO-র ভাষায় এটাই এর মূল সুবিধা।
মিষ্টি মেশানো নেই এমন মিক্স ৬ মাস থেকেই দেওয়া যায়। যে মিক্সে খেজুর চিনি বা অন্য মিষ্টি মেশানো আছে, সেটি ১ বছরের পর।
📌 মূল কথা কয়েকটি
- অঙ্কুরিত মানে ভিজিয়ে গজানো — শস্য ১ দিন ভিজিয়ে, ২–৩ দিন ঢেকে রেখে অঙ্কুর গজানো হয় (FAO)।
- অঙ্কুরিত আটার জাউ কম ঘন হয় — কম পানিতেই হয়, তাই একই আয়তনে বেশি শক্তি ও পুষ্টি থাকে।
- আয়রন ভালো শোষিত হয় — FAO বলছে সাধারণ আটার তুলনায় অঙ্কুরিত বা গাঁজানো আটা থেকে আয়রন বেশি শোষিত হয়।
- এটি ওষুধ নয় — পুষ্টি মিক্স বাবুর খাবারের একটি অংশ, পুরো খাবার নয়।
- উপাদানের তালিকা পড়ুন — মিষ্টি বা লবণ মেশানো আছে কি না, সেটাই বয়স ঠিক করে দেয়।
WHO-র ২০২৩ সালের নির্দেশিকা বলছে, ৬ মাস বয়সে পরিপূরক খাবার শুরু করতে হবে এবং বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি পর্যন্ত চলবে। শস্য ব্যবহার করলে গোটা শস্যকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে, আর ডাল, বাদাম ও বীজ ঘন ঘন দিতে বলা হয়েছে — বিশেষ করে যখন মাছ, ডিম বা মাংস কম পড়ে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে বলা আছে, বেশি চিনি ও লবণযুক্ত খাবার নয়।
১. পুষ্টি মিক্স কি — একটু বিস্তারিত
পুষ্টি মিক্স হলো কয়েক রকম শস্য, ডাল আর বাদাম একসাথে মিশিয়ে বানানো একটি শুকনো গুঁড়া, যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো শস্য বা ডালের অন্তত কিছু অংশ আগে অঙ্কুরিত করে নেওয়া হয়।
রান্নার পদ্ধতি সাদামাটা। দুই-তিন চামচ গুঁড়া পানিতে গুলে নাড়তে নাড়তে ফুটিয়ে নিলেই জাউ তৈরি।
নামটা নতুন শোনালেও জিনিসটা নতুন নয়। বাংলাদেশের বহু ঘরে যুগ যুগ ধরে চাল-ডাল ভেজে গুঁড়া করে বাবুর জাউ বানানো হয়েছে। এই মিক্স সেই অভ্যাসটাকেই একটু গুছিয়ে নেওয়া — শিশুর প্রথম সলিড খাবারের ধাপটা পেরোনোর পর এটি কাজে লাগে।
“পুষ্টি মিক্স” কোনো সংরক্ষিত নাম নয়। এক প্যাকেটে থাকতে পারে শুধু অঙ্কুরিত গম ও ডাল, আরেকটায় থাকতে পারে চিনি, গুঁড়া দুধ বা স্বাদবর্ধক। প্যাকেটের সামনের নাম নয়, পেছনের উপাদানের তালিকাটা পড়ুন — বাবুর বয়সের সাথে মানাবে কি না সেটা ওখানেই লেখা আছে।
২. অঙ্কুরিত করলে আসলে কী বদলায়
অঙ্কুরিত করা মানে শস্য বা ডাল ভিজিয়ে রেখে অঙ্কুর গজানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা, তারপর শুকিয়ে গুঁড়া করা। এতে দুটো বাস্তব পরিবর্তন হয়, আর দুটোই নির্দেশিকায় লেখা আছে।
প্রথম পরিবর্তন — জাউ কম ঘন হয়। FAO-র পারিবারিক পুষ্টি নির্দেশিকা বলছে, অঙ্কুরিত বা গাঁজানো শস্যের আটা দিয়ে বানানো জাউ সাধারণ জাউয়ের মতো অত ঘন হয় না; কম পানিতেই বানানো যায়, ফলে একই আয়তনে বেশি শক্তি ও পুষ্টি থাকে।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ বাবুর পাকস্থলী ছোট। জাউ পাতলা করতে গিয়ে পানি বাড়ালে পুষ্টিও পাতলা হয়ে যায়, আর তখন সেই পুষ্টি পেতে তাকে অনেক বেশি খেতে হয় — যেটা সে পারে না।
দ্বিতীয় পরিবর্তন — আয়রন ভালো শোষিত হয়। একই নির্দেশিকা বলছে, সাধারণ আটার তুলনায় অঙ্কুরিত বা গাঁজানো আটা থেকে আয়রন বেশি শোষিত হয়।
সহজ কথায়: শস্য-ডালে ফাইটেট নামে একটা উপাদান থাকে। FAO ও WHO-র যৌথ প্রতিবেদন বলছে, ফাইটেট আয়রন শোষণে জোরালো বাধা দেয়, অল্প পরিমাণেও এর প্রভাব স্পষ্ট। ভেজানো ও অঙ্কুরিত করার ধাপটা সেই বাধাটা কমাতে সাহায্য করে — অর্থাৎ একই ডাল, একই চাল, কিন্তু শরীর আগের চেয়ে বেশিটা কাজে লাগাতে পারে। বাবুর পুরো পুষ্টির ছবিটা আছে শিশুর পুষ্টির সম্পূর্ণ গাইডে।
আরেকটা সহজ কৌশল এখানেই কাজে লাগে। FAO ও WHO বলছে ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ আয়রন শোষণের সবচেয়ে শক্তিশালী সহায়ক। তাই জাউয়ের পাশে এক টুকরো পেয়ারা, আমলকী বা কমলা দিলে আয়রনের হিসাবটা আরও ভালো হয়।
৩. পুষ্টি মিক্সে সাধারণত কী কী থাকে
ভালো একটি মিক্সে তিন দলের উপাদান থাকে — শক্তির জন্য শস্য, প্রোটিনের জন্য ডাল, আর ভালো চর্বির জন্য বাদাম বা বীজ।
| দল | সাধারণ উপাদান | কেন থাকে |
|---|---|---|
| শস্য | অঙ্কুরিত গম, লাল চাল, যব, ভুট্টা | শক্তির মূল উৎস, জাউয়ের ভিত |
| ডাল | মুগ, মসুর, ছোলা, রাজমা | উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আয়রন |
| বাদাম ও বীজ | কাঠবাদাম, কাজু, চিনাবাদাম | ঘন শক্তি ও ভালো চর্বি |
| স্বাদ | এলাচ, দারুচিনি | গন্ধ ও স্বাদ, লবণ-চিনি ছাড়াই |
| মিষ্টি (সব মিক্সে নয়) | খেজুর চিনি, গুড়, খুরমা খেজুর | থাকলে সেটি ১ বছরের পরের মিক্স |
← ডানে-বামে স্ক্রল করে পুরো টেবিল দেখুন
শেষ সারিটাই কেনার সময় সবচেয়ে কাজে লাগে। WHO-র নির্দেশিকা পরিষ্কার — বেশি চিনি বা লবণযুক্ত খাবার এই বয়সে নয়, আর NHS সরাসরি বলছে বাবুর বাড়তি চিনির দরকার নেই।
Kids Care BD-র অঙ্কুরিত পুষ্টি মিক্সে আছে অঙ্কুরিত গম, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, চিনা বাদাম, খেজুর চিনি ও এলাচ। খেজুর চিনি থাকায় এটি ১ বছরের পরের বাবুর জন্য — এই কথাটা আমরা লুকিয়ে রাখি না, কারণ এটাই নিয়ম।
৪. কোন বয়স থেকে, কতটুকু
মিষ্টি বা লবণ মেশানো নেই এমন পুষ্টি মিক্স ৬ মাস থেকেই দেওয়া যায়, কারণ WHO ওই বয়সেই পরিপূরক খাবার শুরু করতে বলে। আর যে মিক্সে মিষ্টি মেশানো আছে, সেটি ১ বছরের পর।
শুরুটা ছোট রাখুন। FAO-র পরামর্শ অনুযায়ী ১–২ চা চামচ জাউ দিয়ে শুরু করাই যথেষ্ট, তারপর বাবুর আগ্রহ দেখে ধীরে ধীরে বাড়ান।
| বয়স | জাউয়ের ঘনত্ব | শুরুর পরিমাণ | দিনে কয় বেলা |
|---|---|---|---|
| ৬ মাসের নিচে | এখনো নয় — শুধু বুকের দুধ | — | — |
| ৬–৮ মাস | মসৃণ, তবে পাতলা নয় | ১–২ চা চামচ | ২–৩ বেলা |
| ৯–১১ মাস | ঘন, সামান্য দানা রেখে | ২–৪ চা চামচ | ৩–৪ বেলা + ১–২ নাশতা |
| ১২–২৩ মাস | পরিবারের খাবারের মতো | ৪–৬ চা চামচ | ৩–৪ বেলা + ১–২ নাশতা |
← ডানে-বামে স্ক্রল করে পুরো টেবিল দেখুন
বেলার সংখ্যাগুলো WHO ও PAHO-র নির্দেশিকা থেকে নেওয়া। মনে রাখবেন, এই জাউ ওই বেলাগুলোর একটিতে বসে — সব বেলায় নয়। বাকি বেলায় ভাত, ডাল, ডিম, মাছ ও সবজি থাকুক। বয়সভিত্তিক পুরো ছক আছে বয়স অনুযায়ী বাচ্চার খাবার তালিকায়, আর শুরুর মাসটার বিস্তারিত আছে ৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকায়।
পরিমাণগুলো শুরুর হিসাব, নিয়ম নয়। একেক দিন বাবুর খিদে একেক রকম — এটা স্বাভাবিক, আর এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
পুষ্টি মিক্সে একসাথে অনেক উপাদান থাকে, আর তার মধ্যে বাদাম ও গম দুটোই পরিচিত অ্যালার্জেন। তাই প্রথমবার দেওয়ার পর ৩ দিন অন্য কোনো নতুন খাবার যোগ করবেন না। প্রথম দিন আধা চা চামচই যথেষ্ট, দিনের প্রথম ভাগে দিন — রাতে নয়। আগে থেকে কোনো খাবারে অ্যালার্জি ধরা পড়ে থাকলে শুরুর আগে শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
একটা কথা পরিষ্কার করে বলে রাখি — ঘরের ভাত-ডাল-মাছই বাবুর মূল খাবার। এটি সহায়ক, বিকল্প নয়।
৫. পুষ্টি মিক্স আর সেরেলাক কি এক
না, এক নয় — যদিও দুটোই গুঁড়া এবং দুটোই জাউ হয়ে যায়।
পার্থক্যটা মূলত দুই জায়গায়: উপাদান অঙ্কুরিত করা হয়েছে কি না, আর ভিটামিন-খনিজ আলাদা করে মেশানো হয়েছে কি না।
| তুলনার দিক | পুষ্টি মিক্স | সেরেলাক ধাঁচের সিরিয়াল |
|---|---|---|
| মূল ধারণা | অঙ্কুরিত শস্য-ডাল-বাদামের গুঁড়া | শস্যভিত্তিক শিশু-সিরিয়াল |
| অঙ্কুরিত করা | হ্যাঁ, এটাই মূল বৈশিষ্ট্য | সাধারণত নয় |
| বাড়তি ভিটামিন-খনিজ | সাধারণত মেশানো হয় না | অনেক ব্র্যান্ডে মেশানো থাকে |
| স্বাদ | বাদামি, ভাজা গন্ধ | মিষ্টি বা দুধেল ভাব বেশি |
| কোনটা কখন | একটি বেলার ঘন খাবার হিসেবে | একটি বেলার সহজ খাবার হিসেবে |
← ডানে-বামে স্ক্রল করে পুরো টেবিল দেখুন
সহজ কথায়: দুটোর কোনোটাই “ভালো” বা “খারাপ” নয়, দুটো আলাদা কাজের জিনিস। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বাস্তব পথ — একদিন পুষ্টি মিক্স, আরেকদিন সেরেলাক, আরেকদিন খিচুড়ি। কোন সিরিয়াল কীভাবে বেছে নেবেন তার পুরো তুলনা আছে সেরেলাক কোনটা ভালো লেখাটিতে।
একটা কথা মনে রাখা দরকার। কোনো গুঁড়া খাবারই বুকের দুধ বা ফর্মুলার জায়গা নেয় না — এগুলো পরিপূরক খাবার, পানীয় নয়। WHO-র পরামর্শ অনুযায়ী বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত চলবে।
৬. ঘরে বানাবেন কীভাবে
ঘরে অঙ্কুরিত আটা বানানোর ধাপগুলো FAO-র নির্দেশিকায় হুবহু দেওয়া আছে, আর সেগুলো বাংলাদেশি রান্নাঘরে করাও সহজ।
- বেছে ধুয়ে নিনগম, মুগ বা যে শস্যই নিন, পাথর-কাঁকর বেছে ভালো করে ধুয়ে নিন।
- ১ দিন ভিজিয়ে রাখুনপানি যেন শস্যের দ্বিগুণ উচ্চতায় থাকে। পরদিন পানি ঝরিয়ে ফেলে দিন।
- ঢেকে রাখুন ২–৩ দিনভেজা কাপড় বা পরিষ্কার বস্তায় মুড়ে অন্ধকার, গরম জায়গায় রাখুন — অঙ্কুর না গজানো পর্যন্ত।
- রোদে শুকানঅঙ্কুরিত শস্য ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন। ভেতরে আর্দ্রতা থেকে গেলে গুঁড়ায় ছত্রাক পড়ে।
- ভেজে গুঁড়া করে চেলে নিনহালকা করে ভেজে ঠান্ডা করে গুঁড়া করুন, তারপর চেলে নিন। বাদাম দিলে আলাদা করে ভেজে মেশান।
- বায়ুরোধী কৌটায় রাখুনঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রাখুন। বাদাম মেশানো গুঁড়া দ্রুত গন্ধ ধরে, তাই অল্প অল্প করে বানানোই ভালো।
রান্না শেষে এক চিমটি ঘি বা তেল মিশিয়ে দিন। FAO বলছে জাউয়ে তেল বা ঘিয়ের মতো শক্তিসমৃদ্ধ খাবার যোগ করা এবং বাদাম-ডালের গুঁড়া মেশানো — দুটোই জাউকে বেশি শক্তি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ করার স্বীকৃত উপায়। এই হিসাবটা বিস্তারিত আছে বাচ্চার ওজন বাড়ানোর উপায় গাইডে।
৭. পুষ্টি মিক্স: যা করবেন, যা করবেন না
পুরো লেখাটা এক জায়গায় গুছিয়ে নিচে দিলাম।
✅ যা করবেন
- উপাদানের তালিকা পড়ে কিনুন
- ১–২ চা চামচ দিয়ে শুরু করুন
- জাউ ঘন রাখুন, পাতলা নয়
- সাথে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল দিন
- প্রথমবারের পর ৩ দিন অপেক্ষা করুন
- বায়ুরোধী কৌটায় ঠান্ডা জায়গায় রাখুন
🚫 যা করবেন না
- ৬ মাসের আগে দেবেন না
- ১ বছরের নিচে মিষ্টি মেশানো মিক্স নয়
- ১ বছরের নিচে লবণ বা চিনি যোগ করবেন না
- ফিডারে গুলে খাওয়াবেন না
- গরুর দুধ প্রধান পানীয় করবেন না
- সব বেলায় একই জাউ দেবেন না
৮. কখন ডাক্তার দেখাবেন
- মুখ, ঠোঁট বা চোখের চারপাশ ফুলে ওঠে, বা শরীরে র্যাশ বেরোয়
- শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা শ্বাসের সাথে শব্দ হয়
- খাওয়ার পর বারবার বমি হয় বা পায়খানায় রক্ত দেখা যায়
- পেট শক্ত হয়ে ফুলে থাকে আর বাবু ছোঁয়ালে কাঁদে
- বাবুর ওজন কমছে, বা কয়েক মাস ধরে একই জায়গায় আটকে আছে
৯. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পুষ্টি মিক্স কী দিয়ে তৈরি?
সাধারণত তিন দলের উপাদান দিয়ে — শক্তির জন্য শস্য যেমন অঙ্কুরিত গম বা লাল চাল, প্রোটিনের জন্য ডাল যেমন মুগ বা মসুর, আর ভালো চর্বির জন্য বাদাম। সাথে এলাচ বা দারুচিনির মতো মসলা দেওয়া হয় স্বাদের জন্য। কোনো কোনো মিক্সে খেজুর চিনি বা গুড়ও মেশানো থাকে।
অঙ্কুরিত করলে কী উপকার হয়?
দুটো বাস্তব উপকার হয়। FAO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী অঙ্কুরিত শস্যের আটা দিয়ে বানানো জাউ কম ঘন হয়, তাই কম পানিতেই হয় এবং একই আয়তনে বেশি শক্তি ও পুষ্টি থাকে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ আটার তুলনায় অঙ্কুরিত বা গাঁজানো আটা থেকে আয়রন বেশি শোষিত হয়। ছোট পাকস্থলীর বাবুর জন্য এই দুটো সুবিধাই কাজে লাগে।
পুষ্টি মিক্স কোন বয়স থেকে দেওয়া যায়?
মিষ্টি বা লবণ মেশানো নেই এমন মিক্স ৬ মাস থেকে দেওয়া যায়, কারণ WHO ওই বয়সেই পরিপূরক খাবার শুরু করতে বলে। যে মিক্সে খেজুর চিনি বা অন্য মিষ্টি মেশানো আছে, সেটি ১ বছরের পর। শুরুতে ১–২ চা চামচ জাউ যথেষ্ট, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ান।
পুষ্টি মিক্স আর সেরেলাক কি এক?
না। পুষ্টি মিক্সের মূল বৈশিষ্ট্য হলো উপাদান অঙ্কুরিত করে নেওয়া, আর সেখানে সাধারণত বাড়তি ভিটামিন-খনিজ মেশানো হয় না। সেরেলাক ধাঁচের শিশু-সিরিয়াল শস্যভিত্তিক এবং অনেক ব্র্যান্ডে ভিটামিন-খনিজ আলাদা করে মেশানো থাকে। দুটোই একটি বেলার খাবার হিসেবে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, তাই কোনটা ভালো তার চেয়ে কোনটা কখন প্রশ্নটাই বেশি কাজের।
পুষ্টি মিক্স দিনে কয়বার দেওয়া যায়?
দিনে একবারই যথেষ্ট। WHO ও PAHO-র হিসাবে ৬–৮ মাসে দিনে ২–৩ বেলা এবং ৯–২৩ মাসে ৩–৪ বেলা পরিপূরক খাবার লাগে, সাথে ১–২ বার নাশতা। এটি সেই বেলাগুলোর একটিতে বসবে, বাকি বেলায় ভাত, ডাল, ডিম, মাছ ও সবজি থাকুক। রোজ একই জাউ দিলে বাবু স্বাদের বৈচিত্র্য শিখতে পারে না।
পুষ্টি মিক্স কি বাবুর ওজন বাড়ায়?
কোনো একটি খাবার একা ওজন বাড়ায় না। তবে অঙ্কুরিত আটার জাউ কম ঘন হয় বলে একই বাটিতে বেশি শক্তি ধরে, আর তাতে বাবু অল্প খেয়েও বেশি শক্তি পেতে পারে — এটুকু বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে বৃদ্ধির চার্ট দেখিয়ে নিন।
শেষ কথা
পুষ্টি মিক্স কোনো জাদুকরী গুঁড়া নয়। এটি একটি পুরনো ঘরোয়া অভ্যাসের গোছানো রূপ — শস্য ও ডাল অঙ্কুরিত করে নিলে জাউ কম ঘন হয় আর আয়রন ভালো শোষিত হয়, এটুকুই এর আসল যুক্তি।
তাই দোকানে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা “কোন ব্র্যান্ড” নয়। প্রশ্নটা হলো — উপাদানে কী আছে, আর বাবুর বয়সের সাথে সেটা মানায় কি না।
মিষ্টি মেশানো নেই এমন মিক্স ৬ মাস থেকে, মিষ্টি মেশানো মিক্স ১ বছরের পর। এটুকু মনে রাখলে বাকিটা সহজ।
- সেরেলাক কোনটা ভালো — কোন সিরিয়াল কোন বয়সে
- শিশুর পুষ্টির সম্পূর্ণ গাইড — পুরো ছবিটা এক জায়গায়
- মাখানা বাচ্চাদের জন্য — আরেকটি উপাদান, একই সৎ হিসাব
তথ্যসূত্র
- World Health Organization — Guideline for complementary feeding of infants and young children 6–23 months of age
- FAO — The Family Nutrition Guide: complementary feeding and germinated flours
- NHS — Foods and drinks to avoid when weaning
- FAO/WHO — Human Vitamin and Mineral Requirements, Chapter 13: Iron (ফাইটেট ও আয়রন শোষণ)
- PAHO/WHO — Guiding Principles for Complementary Feeding of the Breastfed Child (বেলার সংখ্যা)
দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাধারণ পুষ্টি ও খাবার বিষয়ক তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
আপনার শিশুর ওজন, বৃদ্ধি, হজম, অ্যালার্জি বা কোনো শারীরিক সমস্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
📩 আপনার বাবু পুষ্টি মিক্স খায়?
কত মাস বয়সে শুরু করেছিলেন, আর জাউটা কীভাবে বানান? ঘরে অঙ্কুরিত আটা বানানোর কোনো কৌশল জানা থাকলে কমেন্টে লিখুন।
আরও মায়েদের অভিজ্ঞতা জানতে Kids Care BD Facebook কমিউনিটি-তে যোগ দিন।