✓ ক্যাশ অন ডেলিভারি — সারা দেশে      ✓ ৭ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি      ✓ শিশু পুষ্টি পরামর্শ      ✓ ISO 22000:2018 সার্টিফাইড      ✓ ক্যাশ অন ডেলিভারি — সারা দেশে      ✓ ৭ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি      ✓ শিশু পুষ্টি পরামর্শ      ✓ ISO 22000:2018 সার্টিফাইড
২০২৬ বয়সভিত্তিক গাইড

১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা ও দৈনিক রুটিন

দেড় থেকে দুই বছরের বাবু কী খাবে, দিনে কয় বেলা, দুধ কতটুকু আর নাস্তায় কী — পারিবারিক খাবারে আনার তিনটে বদল আর ৭ দিনের নমুনা রুটিনসহ।

১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা ও দৈনিক রুটিন

১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা আগের বয়সগুলোর মতো আলাদা করে বানানোর জিনিস নয়। এই বয়সে বাবু পরিবারের খাবারই খায় — শুধু তিনটে জায়গায় বদল লাগে।

তবু এই বয়সেই মায়েরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েন। কারণ খাওয়ার পরিমাণ হঠাৎ কমে যায়, আর দুধ ছাড়া কিছু মুখে তুলতে চায় না।

“বাবুর ২০ মাস চলছে। সারাদিন শুধু দুধ চায়, ভাত-তরকারি দেখলেই মুখ ঘুরিয়ে নেয়। এক বছর বয়সে যা খেত, এখন তার অর্ধেকও খায় না। আমাদের খাবারে ঝাল-লবণ থাকে, তাই আলাদা রান্না করি — কিন্তু সেটাও খায় না।”

— Kids Care BD কমিউনিটি থেকে

এই দুটো সমস্যা আসলে একটাই সমস্যা, আর তার সমাধানটা একটা সংখ্যার মধ্যে লুকিয়ে আছে। নিচে ধাপে ধাপে দেখে নিন।

✅ এক নজরে উত্তর

১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা দাঁড়ায় দিনে ৩ বেলা পরিবারের খাবার আর ২ বার হালকা নাস্তায়। এক বেলায় ২৫০ মিলি কাপের তিন-চতুর্থাংশ থেকে এক কাপ। দুধ দিনে ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলির মধ্যে রাখুন — বেশি হলে খাবারের জায়গা নিয়ে নেয়।

📌 মূল কথা কয়েকটি

  • দিনে ৩ বেলা + ২ বার নাস্তা — NHS ১২ মাসের পরের জন্য এই কাঠামোই বলছে।
  • এক বেলায় ¾ থেকে ১ কাপ — WHO ও UNICEF-এর হিসাবে ২৫০ মিলি কাপের মাপে।
  • দুধ দিনে ৩৫০–৫০০ মিলি — এর বেশি হলে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার কম যায়।
  • লবণ দিনে ২ গ্রামের বেশি নয় — ১ থেকে ৩ বছরের জন্য NHS-এর সীমা।
  • আলাদা রান্না আর লাগে না — ঘরের খাবার থেকেই ভাগ তুলে রাখুন, লবণ-ঝাল দেওয়ার আগে।
  • খাওয়া কমে যাওয়া এই বয়সে স্বাভাবিক — বৃদ্ধির গতি কমে, তাই খিদেও কমে।
📊 নির্দেশিকা যা বলে

WHO ও UNICEF-এর IYCF কাউন্সেলিং উপকরণে ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য লেখা আছে — দিনে অন্তত ৩ বেলা খাবার, সাথে ১ থেকে ২ বার নাস্তা, আর এক বেলায় ২৫০ মিলি কাপের তিন-চতুর্থাংশ থেকে এক কাপ পরিবারের খাবার। NHS বলছে ১২ মাসের পর দিনে ৩ বেলা ও ২ বার নাস্তা, আর দুধ বা পানিই হবে প্রধান পানীয়। ESPGHAN-এর অবস্থানপত্রে গরুর দুধের হিসাবটা সংখ্যায় দেওয়া আছে — ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিনে ৫০০ মিলির কম।


১. ১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা | 18 to 24 Month Food Chart

দিনে ৩ বেলা মূল খাবার, সাথে ২ বার হালকা নাস্তা — এটাই এই বয়সের কাঠামো। খাবারটা আলাদা কিছু নয়, পরিবারের রান্নাই।

NHS-এর ১২ মাস-পরবর্তী নির্দেশনায় সরাসরি লেখা আছে, এই বয়সে শিশু দিনে ৩ বেলা খাবে আর মাঝে ২ বার হালকা নাস্তা নেবে। WHO ও UNICEF-এর IYCF উপকরণেও ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য একই কথা — অন্তত ৩ বেলা, সাথে ১ থেকে ২ বার নাস্তা।

বয়সদিনে কয় বেলাএক বেলায় কতটুকুখাবার কেমন
৯–১১ মাস৩ বেলা + ১–২ নাস্তা½ থেকে ¾ কাপমিহি কুচি, দলা রাখা
১২–১৭ মাস৩ বেলা + ১–২ নাস্তা¾ কাপপরিবারের খাবার, ছোট করে কাটা
১৮–২৪ মাস৩ বেলা + ২ নাস্তা¾ থেকে ১ কাপপরিবারের খাবার, নিজে হাতে

← ডানে-বামে স্ক্রল করে পুরো টেবিল দেখুন

সহজ কথায়: “এক কাপ” মানে চায়ের কাপ নয় — ২৫০ মিলির মাপা কাপ বা বাটি। এক বেলায় পৌনে এক বাটি থেকে এক বাটি।

প্রতি বেলায় ঠিক ওই পরিমাণ যাবে না, আর যাওয়ার দরকারও নেই। এক দিনের হিসাব না ধরে পুরো সপ্তাহের হিসাব ধরুন।

দিনটা দেখতে কেমন হবে

সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার — এই তিনটে বেলা পরিবারের সাথে। তার ফাঁকে সকাল-বিকেল দুটো ছোট নাস্তা।

প্রতি বেলায় তিনটে জিনিস রাখার চেষ্টা করুন: একটা শস্য (ভাত, রুটি, খিচুড়ি, সুজি), একটা প্রোটিন (ডাল, ডিম, মাছ, মাংস), আর একটা সবজি বা ফল। WHO-র ২০২৩ সালের পরিপূরক খাবার নির্দেশিকায় বলা আছে — মাছ, ডিম বা মাংসের মতো প্রাণিজ খাবার রোজ থাকা উচিত, আর ফল ও সবজিও রোজ।

বয়স ধরে ধরে পুরো ছকটা একসাথে দেখতে চাইলে বয়স অনুযায়ী বাচ্চার খাবার তালিকা দেখে নিন। আগের ধাপটা মনে করতে চাইলে ৮ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা থেকে শুরু করলে পার্থক্যটা পরিষ্কার হবে।


২. দুধ কতটুকু: এই বয়সের সবচেয়ে বড় ফাঁদ

দিনে ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলি — এটাই এই বয়সের দুধের জানালা। এর নিচে নামলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে, আর উপরে উঠলে খাবারের জায়গা কমে যায়।

সংখ্যা দুটো দুই জায়গা থেকে আসে। NHS বলছে দিনে অন্তত ৩৫০ মিলি দুধ দেওয়ার চেষ্টা করতে, অথবা সমপরিমাণ দুগ্ধজাত খাবার। আর ইউরোপের শিশু পুষ্টি সংগঠন ESPGHAN তাদের আয়রন-বিষয়ক অবস্থানপত্রে সীমাটা টেনে দিয়েছে — ছোট বাচ্চাদের গরুর দুধ দিনে ৫০০ মিলির কম রাখা উচিত।

কেন এই সীমা? একই অবস্থানপত্রে লেখা আছে, বেশি গরুর দুধ খাওয়া আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার একটা পরিচিত ঝুঁকির কারণ। দুধে আয়রন কম, আর পেট ভরে গেলে ডিম-মাছ-ডাল-মাংস আর যায় না।

সহজ কথায়: দুধ ভালো খাবার, কিন্তু পেট ছোট। দিনে দেড় লিটার দুধ গেলে ওই পেটে ভাত-ডাল-মাছের জায়গা আর থাকে না।

তাই “দুধ খায়, ভাত খায় না” — এই অভিযোগটার সমাধান প্রায়ই খাবার বাড়ানো নয়, দুধ কমানো। দিনে দুই থেকে আড়াই কাপের মধ্যে রাখলেই খিদে ফিরে আসতে শুরু করে।

💡 আজ রাতেই যা বদলাতে পারেন

  • খাবারের আগে দুধ নয় — খাওয়ার পর দিন, অথবা দুটোর মাঝে অন্তত এক ঘণ্টা রাখুন।
  • ফিডার ছেড়ে কাপে — ফিডারে চুমুক দিতে দিতে বাবু নিজেই খেয়াল না করে অনেকটা দুধ নিয়ে ফেলে।
  • রাতে শুয়ে দুধ নয় — এতে দিনের খিদে নষ্ট হয়, দাঁতেরও ক্ষতি হয়।

বুকের দুধ কি বন্ধ করতে হবে

না। বরং WHO বলছে দুই বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

WHO-র হিসাবে ১২ থেকে ২৪ মাসে বুকের দুধ শিশুর শক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জোগায়। অর্থাৎ এটা এখনো তালিকার বাইরের কিছু নয়। উপরের ৩৫০–৫০০ মিলির হিসাবটা গরুর দুধের জন্য, বুকের দুধের জন্য নয়।

যে বাবু বুকের দুধ খায় না, তার জন্য WHO বলছে ফুল ক্রিম প্রাণিজ দুধ দিতে — ফলো-আপ ফর্মুলা নয়। NHS-ও একই কথা বলে: ১২ মাসের পর পাস্তুরিত ফুল ফ্যাট গরুর দুধ চলবে, আর ২ বছর পর্যন্ত দই ও পনিরও ফুল ফ্যাট রাখতে। দুধ খাওয়ানোর পুরো ছবিটা আছে বুকের দুধ খাওয়ানোর সম্পূর্ণ গাইডে।

⚠️ যেগুলো পানীয় হিসেবে নয়

  • চিনি-মেশানো পানীয় — WHO-র ২০২৩ নির্দেশিকা সরাসরি বলছে, ৬ থেকে ২৩ মাসে চিনি-মেশানো পানীয় দেওয়া যাবে না। কৃত্রিম মিষ্টিও নয়।
  • ফলের রস বেশি — CDC-র পাতায় আছে, ১ থেকে ৩ বছরে দিনে ১২০ মিলির (৪ আউন্স) বেশি ১০০% ফলের রস নয়। আস্ত ফল সবসময় ভালো।
  • চা, কফি বা কোমল পানীয় — CDC বলছে ২ বছরের নিচে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে।

৩. পারিবারিক খাবারে আনার তিনটে বদল

পারিবারিক খাবার এই বয়সে দেওয়া যায়, এবং দেওয়াই উচিত। ১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা আলাদা করে বানানোর দরকার নেই — শুধু তিনটে জিনিস বদলাতে হয়: লবণ, ঝাল আর টুকরার আকার।

NHS-এর ভাষায় এই বয়সে শিশু পরিবারের খাবারই খাবে, শুধু ছোট পরিমাণে আর ছোট করে কেটে। আলাদা করে “বাবুর রান্না” করার দিন শেষ।

  1. লবণ দেওয়ার আগে ভাগ তুলে রাখুনতরকারি নামানোর ঠিক আগে, লবণ পড়ার আগে বাবুর অংশটা আলাদা বাটিতে তুলে নিন। NHS-এর সীমা হলো ১ থেকে ৩ বছরে দিনে ২ গ্রামের বেশি লবণ নয় — আর এক প্যাকেট চিপসেই তার বড় অংশ চলে যায়।
  2. মরিচ-গরম মসলা পরে দিনপেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, জিরা, ধনে — এগুলো নিয়ে সমস্যা নেই, বরং স্বাদ চেনানো ভালো। শুধু কাঁচা মরিচ ও গুঁড়া মরিচটা বাবুর ভাগ তোলার পরে দিন।
  3. টুকরা ছোট ও নরম করুনমাংস ছিঁড়ে ছোট করুন, মাছের কাঁটা বেছে নিন, আঙুরের মতো গোল ফল লম্বালম্বি চার ভাগ করুন। শক্ত কাঁচা গাজর বা আপেল সেদ্ধ বা কুরিয়ে দিন।
  4. আস্ত বাদাম এখনো নয়NHS স্পষ্ট বলছে ৫ বছরের নিচে আস্ত বাদাম নয় — গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি। বাদাম দিতে চাইলে গুঁড়া করে বা মিহি বাটা করে খাবারে মিশিয়ে দিন।
  5. নিজের হাতে খেতে দিনএই বয়সে বাবু চামচ ধরতে শেখে। ছড়াবে, মাখামাখি হবে — সেটাই শেখার অংশ। খাওয়ানোর পুরো রুটিন গোছানো আছে বাচ্চাকে খাওয়ানোর সম্পূর্ণ গাইডে।

সহজ কথায়: ছোট বাচ্চার কিডনি এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি, তাই বেশি লবণ সামলাতে পারে না — NHS কারণটা এভাবেই ব্যাখ্যা করে।

“একটু লবণ না দিলে তো স্বাদ হয় না” — কথাটা আমাদের জিভের জন্য সত্যি, বাবুর জন্য নয়। ও এখনো লবণের স্বাদে অভ্যস্ত হয়নি, আর না হওয়াটাই ভালো।

✅ এখন যেগুলো খোলা

এক বছরের নিচে যে তিনটে জিনিস নিষেধ ছিল, তার দুটো এখন খুলে গেছে — মধু (NHS বলছে ১ বছরের পর দেওয়া যায়) আর গরুর দুধ পানীয় হিসেবে। তবে লবণ ও বাড়তি চিনির নিয়মটা রয়ে গেছে, শুধু সীমা বদলেছে। মিষ্টির জায়গায় খেজুর, পাকা ফল বা তালমিছরি খাওয়ার নিয়ম দেখে নিতে পারেন।


৪. ৭ দিনের নমুনা রুটিন

১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা বাস্তবে কেমন দেখায়, নিচের ছকটা তার একটা নমুনা। এটা নিয়ম নয় — দেখানোর জন্য যে ঘরের সাধারণ রান্না দিয়েই সপ্তাহজুড়ে বৈচিত্র্য আনা যায়।

দিনসকালদুপুররাত
শনিবাদাম সুজি + পাকা কলাভাত + মুগ ডাল + কাঁটা ছাড়া মাছ + লাউনরম খিচুড়ি + ঘি
রবিনরম রুটি + ডিম (কম তেলে)ভাত + নরম মুরগি + মিষ্টি কুমড়াসবজি খিচুড়ি + টক দই
সোমদুধ-সুজি + খেজুর কুচিভাত + মসুর ডাল + ডিম + পালংনরম নুডলস + সেদ্ধ সবজি
মঙ্গলপরোটার ছোট টুকরা + কলাভাত + কাঁটা ছাড়া মাছ + আলু-বেগুনভাত + ডাল + গাজর ভর্তা
বুধফিরনি + বাদাম গুঁড়াখিচুড়ি + মুরগির কিমা + মটরশুঁটিভাত + ডিম + ঝিঙে
বৃহস্পতিরুটি + টক দইভাত + ডাল + ছোট মাছ + ঢেঁড়সনরম খিচুড়ি + ঘি
শুক্রবাদাম সুজি + আপেল কুরানোপোলাও (কম ঘি) + মুরগি + সবজিভাত + ডাল + মিষ্টি আলু

← ডানে-বামে স্ক্রল করে পুরো টেবিল দেখুন

ছকের প্রতিটি বেলায় শস্য, প্রোটিন আর সবজি — তিনটেই আছে। দিন বদলে গেলেও কাঠামোটা এক থাকে, শুধু উপাদান ঘোরে।

সহজ কথায়: রোজ নতুন পদ ভাবার দরকার নেই। ঘরে যা রান্না হচ্ছে, তার থেকেই ভাগ তুলে রাখুন।

সপ্তাহে দুই-তিন দিন মাছ, দুই দিন ডিম, এক-দুই দিন মাংস — এভাবে ঘোরালে বৈচিত্র্য এমনিতেই এসে যায়।

একটা কথা পরিষ্কার করে বলে রাখি — ঘরের ভাত-ডাল-মাছই বাবুর মূল খাবার। এটি সহায়ক, বিকল্প নয়।


৫. নাস্তায় কী দেবেন

দিনে দুটো নাস্তা — সকাল ও দুপুরের মাঝে একটা, দুপুর ও রাতের মাঝে একটা। ১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকায় নাস্তা মানে বাড়তি এক বেলা ভাত নয়, হাতে ধরার মতো ছোট কিছু।

NHS নাস্তার উদাহরণ হিসেবে দিয়েছে ফল, সবজির লাঠি, টোস্ট, রুটি আর সাদা দই। বাংলাদেশি রান্নাঘরে এর সবগুলোরই সমতুল্য আছে।

  • পাকা কলা — অর্ধেক থেকে একটা, ছোট টুকরা করে
  • টক দই — ছোট বাটির অর্ধেক, ২ বছর পর্যন্ত ফুল ফ্যাট
  • সেদ্ধ ডিম — অর্ধেক থেকে একটা
  • নরম রুটির টুকরা — আধা রুটি, সামান্য ঘি মেখে
  • সেদ্ধ মিষ্টি আলু — আঙুলের আকারে কয়েক টুকরা
  • পাকা পেঁপে, আম বা পেয়ারা — ছোট টুকরা, খোসা ছাড়িয়ে
  • সেদ্ধ ছোলা চটকানো — কয়েক চামচ, খোসা ছাড়িয়ে
  • চিড়া-দুধ — ছোট বাটির অর্ধেক, ভিজিয়ে নরম করে
  • বাদাম গুঁড়া — দুধ, দই বা সুজিতে মিশিয়ে, আস্ত নয়
  • নরম খিচুড়ি — কয়েক চামচ, আগের বেলার বেঁচে যাওয়া
📊 পরিমাণ নিয়ে সৎ কথা

নাস্তার জন্য কোনো নির্দেশিকাতেই গ্রাম বা চামচের নির্দিষ্ট মাপ দেওয়া নেই। উপরের পরিমাণগুলো ঘরোয়া মাপে বোঝানোর জন্য — নিয়ম নয়। যেটা নির্দেশিকায় আছে সেটা হলো সংখ্যা: দিনে ১ থেকে ২ বার নাস্তা, মূল খাবারের বদলে নয়, তার ফাঁকে।

যে বাবু সবজি দেখলেই মুখ ঘোরায়, তার জন্য নুডলস একটা কাজের রাস্তা — সবজি ভেতরে থাকে, চোখে পড়ে না। ঘরে বানানোর সময় না থাকলে হোমমেইড সবজি নুডলস একটা সহজ বিকল্প, যাতে গমের আটার সাথে পালংশাক, গাজর ও ডিম মেশানো আছে।

মিষ্টি কিছু চাইলে বিকেলের নাস্তায় জাফরানি ফিরনি মিক্স দিয়ে ফিরনি রেঁধে দিতে পারেন — পোলাও চাল, সাগু ও তিন রকম বাদাম দিয়ে তৈরি। শক্তি-ঘন খাবারের পুরো তালিকা আছে ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ২০টি খাবারে।

⚠️ নাস্তা হিসেবে যা নয়

  • চিপস, ঝুরিভাজা, নিমকি — এক প্যাকেটেই দিনের ২ গ্রাম লবণের বড় অংশ চলে যায়।
  • বিস্কুট ও কেক রোজ — WHO-র ২০২৩ নির্দেশিকা বলছে চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাট বেশি এমন খাবার এই বয়সে দেওয়া উচিত নয়।
  • আস্ত বাদাম, আস্ত আঙুর, আস্ত মাখানা, শক্ত লজেন্স — গোল ও শক্ত জিনিস গলায় আটকায়। মাখানা বাচ্চাদের জন্য লেখায় এই ধরনের উপাদান নরম করে দেওয়ার নিয়ম আছে।

৬. খাওয়া কমে গেছে মনে হলে

এক বছরের পর খাওয়া কমে যাওয়া এই বয়সের স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ জীবনের প্রথম বছরে ওজন যত দ্রুত বাড়ে, দ্বিতীয় বছরে তার চেয়ে অনেক ধীরে বাড়ে — খিদেও সেই অনুপাতে কমে।

CDC-র পাতায় লেখা আছে, কয়েকটা খাবারেই আটকে থাকা বা পাতে খাবার আলাদা রাখতে চাওয়া এই বয়সের স্বাভাবিক আচরণ, আর সাধারণত ৫ বছর বয়সের মধ্যে নিজে থেকেই চলে যায়।

সহজ কথায়: এক বছর বয়সে যা খেত, দেড় বছরে তার চেয়ে কম খাওয়াটা অসুখ নয় — বৃদ্ধির গতি কমার স্বাভাবিক ফল।

এক দিনের হিসাব না ধরে পুরো সপ্তাহের হিসাব ধরুন। সপ্তাহজুড়ে শস্য, প্রোটিন, সবজি আর ফল — চারটেই ঘুরেফিরে গেলে চিন্তার কিছু নেই।

নতুন খাবার খেতে চায় না

একবার দিয়ে হাল ছাড়বেন না। CDC-র হিসাব অনুযায়ী একটা নতুন খাবার শিশু মুখে তোলার আগে ৮ থেকে ১০ বার সামনে আসতে হতে পারে।

তাই যে সবজিটা গত সপ্তাহে ফেলে দিয়েছিল, সেটা এই সপ্তাহে আবার দিন — অন্যভাবে রেঁধে, অন্য খাবারের সাথে মিশিয়ে। জোর না করে শুধু সামনে রাখাটাই কাজ করে।

WHO-র ২০২৩ নির্দেশিকায় একে বলা হয়েছে সাড়া-দেওয়া খাওয়ানো — শিশু নিজে থেকে খেতে শিখুক, তার নিজের খিদে ও বিকাশের সাড়া অনুযায়ী। অর্থাৎ কতটা খাবে সেটা তার সিদ্ধান্ত, কী খাবে সেটা আপনার।

💡 খাওয়ার টেবিলে যা কাজে দেয়

  • মোবাইল বা টিভি বন্ধ — পর্দা দেখতে দেখতে খেলে বাবু নিজের পেট ভরা বোঝা শেখে না।
  • ২০–৩০ মিনিটে খাওয়া শেষ — এক ঘণ্টা ধরে পিছে পিছে ঘোরালে খাওয়াটা যুদ্ধ হয়ে যায়।
  • পাতে অল্প দিন, চাইলে আরও — ভর্তি পাতে বাবু আগেই হাল ছেড়ে দেয়।
  • সবাই একসাথে বসুন — বাবু অনুকরণ করে শেখে, তাই পরিবারের পাতে যা থাকে সেটাই ওর কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

খেতে না চাওয়ার কারণগুলো এক জায়গায় গোছানো আছে বাচ্চা খাবার খেতে চায় না কেন লেখাটিতে। আর ওজন নিয়ে চিন্তা থাকলে বাচ্চার ওজন বাড়ানোর উপায় আর শিশুর পুষ্টির সম্পূর্ণ গাইড দুটোই কাজে লাগবে।

এখানেও কথাটা একই — ঘরের ভাত-ডাল-মাছই বাবুর মূল খাবার। এটি সহায়ক, বিকল্প নয়।


৭. যা করবেন, যা করবেন না

পুরো লেখাটা এক জায়গায় গুছিয়ে নিচে দিলাম।

✅ যা করবেন

  • দিনে ৩ বেলা খাবার, সাথে ২ বার হালকা নাস্তা
  • দুধ দিনে ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলির মধ্যে রাখুন
  • লবণ দেওয়ার আগে বাবুর ভাগ তুলে রাখুন
  • রোজ ডিম, মাছ বা মাংসের একটা রাখুন
  • নতুন খাবার বারবার সামনে দিন
  • নিজের হাতে খেতে দিন, ছড়াতে দিন

🚫 যা করবেন না

  • খাবারের ঠিক আগে দুধ দেবেন না
  • দিনে ২ গ্রামের বেশি লবণ যেতে দেবেন না
  • চিপস, কোমল পানীয় বা বেশি ফলের রস দেবেন না
  • আস্ত বাদাম, আস্ত আঙুর বা শক্ত লজেন্স দেবেন না
  • মোবাইল বা টিভি দেখিয়ে খাওয়াবেন না
  • জোর করে বা ভয় দেখিয়ে খাওয়াবেন না

৮. কখন ডাক্তার দেখাবেন

খাওয়া কমে যাওয়া নিজে থেকে ডাক্তার দেখানোর কারণ নয়, কিন্তু নিচের যেকোনো একটা দেখলে দেরি করবেন না।

🚨 দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান যদি

  • বাবুর ওজন কমে যাচ্ছে অথবা কয়েক মাস ধরে একই জায়গায় আটকে আছে
  • খুব ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে, সারাদিন ঝিমিয়ে থাকে বা খেলতে চায় না
  • দিনে এক লিটারের বেশি দুধ খায়, আর অন্য খাবার প্রায় কিছুই নেয় না
  • খাওয়ার সময় বারবার দম আটকে যায় বা কাশি ছাড়াই মুখ নীল হয়ে আসে
  • নতুন কোনো খাবারের পর ঠোঁট-মুখ ফুলে যায়, র‍্যাশ ওঠে বা শ্বাসে কষ্ট হয়
  • টানা কয়েক দিন খাবার প্রায় কিছুই নিচ্ছে না, সাথে প্রস্রাব কমে গেছে

৯. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

এই বয়স নিয়ে মায়েদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো আসে, সেগুলোর ছোট উত্তর।

দেড় বছরের বাচ্চা কী কী খেতে পারে?

পরিবারের প্রায় সব খাবারই — ভাত, ডাল, মাছ, ডিম, মাংস, সবজি, রুটি, খিচুড়ি, ফল ও দই। শুধু লবণ দেওয়ার আগে ভাগ তুলে রাখুন, কাঁচা মরিচ বাদ দিন, আর টুকরা ছোট ও নরম করুন। আস্ত বাদাম, আস্ত আঙুর ও শক্ত লজেন্স এখনো নয়।

২ বছরের বাচ্চাকে দিনে কতবার খাওয়াবেন?

দিনে ৩ বেলা মূল খাবার আর ২ বার হালকা নাস্তা। NHS ১২ মাসের পরের জন্য এই কাঠামোই দিয়েছে, আর WHO ও UNICEF-এর IYCF উপকরণে ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য বলা আছে অন্তত ৩ বেলা খাবার ও ১ থেকে ২ বার নাস্তা।

এই বয়সে দুধ কতটুকু দরকার?

দিনে ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলির মধ্যে রাখুন। NHS বলছে অন্তত ৩৫০ মিলি দুধ বা সমপরিমাণ দুগ্ধজাত খাবার দিতে, আর ESPGHAN বলছে ছোট বাচ্চাদের গরুর দুধ দিনে ৫০০ মিলির কম রাখতে। বেশি দুধ খেলে পেট ভরে থাকে, আর আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের জায়গা কমে যায়। বুকের দুধ এই হিসাবের বাইরে — সেটা ২ বছর পর্যন্ত চলতে পারে।

পারিবারিক খাবার কখন থেকে দেওয়া যায়?

১ বছর থেকেই দেওয়া যায়, আর দেড় বছরে এটাই স্বাভাবিক। NHS বলছে এই বয়সে শিশু পরিবারের খাবারই খাবে — শুধু ছোট পরিমাণে ও ছোট করে কেটে। আলাদা রান্নার দরকার নেই, লবণ ও ঝাল পড়ার আগে ভাগটা তুলে রাখলেই হলো।

দেড় বছরের বাচ্চাকে কি লবণ দেওয়া যায়?

খুব অল্প — NHS-এর সীমা ১ থেকে ৩ বছরে দিনে ২ গ্রামের বেশি লবণ নয়। ছোট বাচ্চার কিডনি এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি বলেই এই সীমা। রান্নায় আলাদা করে লবণ দেওয়ার দরকার নেই, আর চিপস বা নিমকি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

বাচ্চা শুধু দুধ খায়, ভাত খেতে চায় না — কী করব?

আগে দুধের হিসাব করুন। দিনে ৫০০ মিলির বেশি গেলে পেট ভরে থাকে, আর ভাতের জায়গা থাকে না। দুধ খাবারের পরে দিন, ফিডার ছেড়ে কাপে দিন, আর রাতে শুয়ে দুধ বন্ধ করুন। কয়েক দিনের মধ্যেই খিদে ফিরতে শুরু করে।


শেষ কথা

১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা মনে রাখার মতো সহজ — দিনে ৩ বেলা পরিবারের খাবার, ২ বার নাস্তা, আর দুধ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলি।

এই তিনটের মধ্যে শেষেরটাই সবচেয়ে কম আলোচনা হয়, অথচ “খায় না” অভিযোগের পেছনে প্রায়ই ওটাই থাকে। দুধের হিসাবটা ঠিক করলে বাকি দুটো অনেক সহজ হয়ে যায়।

আর খাওয়ার পরিমাণ এক বছরের তুলনায় কমে গেলে ভয় পাবেন না। বৃদ্ধির গতি কমেছে, তাই খিদেও কমেছে — এটা স্বাভাবিক। এক দিন নয়, সপ্তাহের হিসাব ধরুন।

Kids Care BD Team

শিশু পুষ্টি ও খাবার বিষয়ক কনটেন্ট টিম

আমরা বাংলাদেশি মায়েদের বাস্তব প্রশ্ন থেকে বিষয় বেছে নিই, এবং WHO ও IYCF নির্দেশিকার সাথে মিলিয়ে লিখি। প্রতিটি খাবার-সংক্রান্ত লেখা প্রকাশের আগে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ পড়ে দেখেন।

🩺 এই লেখাটি চিকিৎসাগতভাবে পর্যালোচনা করেছেন ডা. সাবিহা আক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ — সেপ্টেম্বর ২০২৬

তথ্যসূত্র

  1. World Health Organization — Infant and young child feeding (৯–২৩ মাসে দিনে ৩–৪ বেলা ও ১–২ নাস্তা; ২ বছর বা তার বেশি পর্যন্ত বুকের দুধ; ১২–২৪ মাসে শক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ)
  2. NHS — What to feed your baby: 1 year and beyond (দিনে ৩ বেলা ও ২ নাস্তা; দুধ বা পানি প্রধান পানীয়; ফুল ফ্যাট গরুর দুধ; বাড়তি লবণ-চিনি নয়; পরিবারের খাবার ছোট করে কেটে)
  3. NHS — Salt: the facts (১–৩ বছরে দিনে ২ গ্রামের বেশি লবণ নয়; ছোট শিশুর কিডনি এখনো পুরোপুরি তৈরি নয়)
  4. WHO — Guideline for complementary feeding of infants and young children 6–23 months of age (২০২৩): প্রাণিজ খাবার ও ফল-সবজি রোজ; চিনি-লবণ-ট্রান্স ফ্যাট বেশি খাবার নয়; চিনি-মেশানো পানীয় নয়; সাড়া-দেওয়া খাওয়ানো; বুকের দুধ না খেলে ফুল ফ্যাট প্রাণিজ দুধ
  5. ESPGHAN — Iron Requirements of Infants and Toddlers, Committee on Nutrition Position Paper (ছোট বাচ্চাদের গরুর দুধ দিনে ৫০০ মিলির কম; বেশি গরুর দুধ আয়রন ঘাটতির ঝুঁকির কারণ)
  6. CDC — Infant and Toddler Nutrition: Picky Eaters এবং Foods and Drinks to Limit (নতুন খাবারে ৮–১০ বার পরিচয়; ১–৩ বছরে দিনে ১২০ মিলির বেশি ফলের রস নয়; ২ বছরের নিচে ক্যাফেইন নয়)
  7. WHO ও UNICEF — IYCF কাউন্সেলিং উপকরণ (১২ থেকে ২৪ মাসে অন্তত ৩ বেলা খাবার ও ১–২ নাস্তা; এক বেলায় ২৫০ মিলি কাপের ¾ থেকে ১ কাপ)

দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাধারণ পুষ্টি ও খাবার বিষয়ক তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
আপনার শিশুর ওজন, বৃদ্ধি, অ্যালার্জি বা খাবার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

📩 আপনার বাবু দিনে কতটুকু দুধ খায়?

দুধের হিসাবটা কমানোর পর খাওয়ায় কোনো বদল এসেছে কি না, কমেন্টে লিখুন। আপনার ১.৫ থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা কেমন চলছে, সেটা অন্য মায়েদেরও কাজে লাগবে।

আরও মায়েদের অভিজ্ঞতা জানতে Kids Care BD Facebook কমিউনিটি-তে যোগ দিন।

error: Content is protected !!